আমার আকাশ – My Sky

<<GO BACK              NEXT>>

Bengali feature film

আমার আকাশ (My Sky)

An unconditional love. A romantic love story.

Created by Sanjib Nath

Story & Direction by Bidyut Kanti Majumdar

SN FILMS Bengali short film আমার আকাশ (My Sky) is officially selected in Indian Premier Film Festival (IPFF), Bengaluru 2025.

SCREENPLAY

1) INT. VERANDA - AFTERNOON

টালি বা চালা ঘর। উঠানের পাশেই খোলামেলা রান্নাঘর। খানিকটা উঁচু মাটির বারান্দাতে বসে রফিক মোল্লা। দুপুুরের খাবার খাওয়ার জন্য আসন পেতে বসে। পাশেই একটা জলের গ্লাস রাখা। পরনে লুঙ্গি ও সাদা গেঞ্জি।
আজাদের(15) হাত দুটি বাঁধা বারান্দার খুটির সাথে। মলিন মুখে দাঁড়িয়ে।
ফাতেমা রান্নাঘরে রেগে রেগে রান্না করছে। আর ঝগড়ার মতো উচ্চস্বরে কথা বলে যাচ্ছে একা একা…

ফাতেমা
আর পারি না—
কত কতবার আমি এইভাবে আইটকে রাখবো বইলতে পারো ?
এত চাপ আর সহ্য হয় না।
যে ভাবে নিজের জায়গা ছেইড়ে চলে এইছি
কি হইল —এখিনেও কি শান্তি আছে আমার ?

কড়াইতে খুন্তি নাড়িয়ে কথাগুলি বলে চলেছে। মাঝে মাঝে আজাদের বাবা রফিক মোল্লার দিকে তাকায় রাগান্বিত চেহারায়।

তুমি কি কিছুই বইলতে পারো না ?
বোঝোনা কিছুই !
ছেলে মেয়ে নিয়ে শূন্য হাতে চলে এইছি
নিশ্চিন্তে থাইকবো বলে।
কি সুখে আছি !
যেমন বাবা তেমনি তার ছেইলে।
আমার হইছে যত মরণ
মরলে বেইঁচে যেতাম।

কথাগুলি বলতে বলতে কান্না শুরু করে। খুন্তি নাড়ার শব্দটাও বাড়তে থাকে |

2) INT. VERANDA - CONTINUE
আজাদের বাবা রফিক ফ্যাল ফ্যাল করে দেখছে সব।
একবার আজাদের দিকে -একবার ফাতে মার দিকে তাকাতে থাকে। কিছু বলতে চেষ্টা করলেও বলতে পারে না। কোমরে লুঙ্গির ভাজে গোঁজা বিড়ির প্যাকেট বের করে একটা বিড়ি ধরায়।
কিছুক্ষণ নীরবে বসে বিড়ি টানতে থাকে। তারপর বিরক্তির ভঙ্গিতে উঠে চলে যায়।
ঘরের পাশে রাখা একটা কোদাল ঘাড়ে নিয়ে মাঠের দিকে চলে যায়।

3) INT. CONTINUE
ফাতেমা এসব দেখতে পেয়ে কান্না থামায়। কাত হয়ে খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে

ফাতেমা
কি হইছে – না খেয়ে চইলে যাচ্ছ যে !
কে খাবে এই রান্না ?
তোমরা সবাই মিলে আমারে জ্বালাবা ?

রফিক
তুই খা।
আমাদের কথা তোর ভাইবতে হবে না।

রফিক যেতে যেতে এই কথাগুলি বলতে থাকে পিছনে না তাকিয়ে।

4) INT. CONTINUE
এসব দেখে আজাদ অপরাধী মতো তাকায়। কাচুমাচু করে কাঁদতে থাকে। বাঁধা হাত একটু টানতে থাকে খোলার জন্য।

5) INT. CONTINUE
আজাদের বোন ঘরের কোনে এক পাশে চুপচাপ ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে মুখেও হতাশা ধরা পড়ে।

6) INT. CONTINUE
ফাতেমা রান্নাঘর থেকে খুন্তি হাতে বেরিয়ে আজাদের কাছে এসে বলতে থাকে…

ফাতেমা
তুই কি চাইছিস বলতো।
সবাইকে মারবি ?
তোকে আজ সারাদিন না খাইয়ে রাখবো।
এখানে এসেও কোনো শান্তি নাই আমার !
আমি মরি – তারপর যা খুশি তুই কর।
কথা গুলি বলতে বলতে আবার রান্নাঘরে চলে যায়।
এবার সুর করে কান্না শুরু করে। রান্নাঘর থেকে খুন্তির আঘাতের শব্দ শোনা যায় দ-ুতিন বার।
[ করাইতে খুন্তির আঘাত করলে যেমন শব্দ হয় ]
[ ফাতেমার কান্নার সুরের সাথে অসহায় আজাদকে দেখানো হবে ]

7) EXT. NEAR RIVER - AFTERNOON
আজাদের(15) পরনে ফুল প্যান্ট, গায়ে জামা। দুহাতে বাজারের ব্যাগ – সব্জি ভরা। হাসতে হাসতে আজাদ দৌড়ে আসছে নৌকার ঘাটের দিকে। ঘাটের কাছে আসার পর আজাদ ব্যাগ থেকে সবজি ঢেলে ফেলে। ব্যাগের ভিতর থেকে একটা জামা ও প্যান্ট বের করে কাঁধের উপর রাখে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে একটু হাঁপিয়ে নেয়। নিচু হয়ে হাত দুটি হাটুর উপর ভর করে। হাসি ও হাপ দুটোই একসাথে চলতে থাকে। এক মুক্তির উল্লাস যেন তার হাসিতে ধরা পড়ে।
[নদীর ঘাটে নৌকা বাধা থাকবে। আজাদ নৌকার দড়ি খুলছে দেখানো যেতে পারে ]

8) INT. OLD HOUSE (HUT) - NOON
ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। ছোট্ট উঠান। উঠান বা বারান্দার এক কোনে রান্না করছে বছর 60 -এর আজাদ।
মুখে মৌলভী দাড়ি। মাথায় টুপি।
পালিয়ে আসার স্মৃতিটা মনে করতে করতে সমানে হেসে চলেছে। হাসিটা এমন যে স্মৃতিটা বেশিদিনের নয়। এখনো সেই ছোট্ট আজাদ মা-বাবাকে ফাঁকি দিয়ে সে জিতে গেছে।
রান্নার আগুন কখন নিভে গেছে তার লক্ষ্যই নেই। কিছুক্ষণ পর সে যখন বাস্তবে ফিরে আসে – হাসি থামিয়ে আবার আগুন জ্বালাতে চেষ্টা করে।

9) INT. OLD HOUSE - EVENING
আজাদ(15) বারান্দাতে নামাজ পড়ছে। নামাজের শেষে মাদুর গুটিয়ে রাখে।
বারান্দাতে একটা হারিকেন জ্বালিয়ে ঘর থেকে বের হয়।

10) INT. BASUDEB’S HOUSE - EVENING
ছোট্ট মাটির ঘর। বারান্দাতে বসে বাসুদেব দোতারায় সুর তুলছে।
শ্রোতা সরলা - একটু দূরের দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে।

দোতারায় গানের সুর:
আমি অপার হয়ে বসে আছি…

দোতারা সুরের মধ্যেই আজাদ বাসুদেবের বাড়িতে প্রবেশ করে।
সরলা উঠে এসে আজাদকে একটা আসন পেতে দেয়।
আজাদ এসে হাসি মুখে আসনে বসতে বসতে সরলার সাথে কুশল বিনিময় করে –

আজাদ
ভাবি, ভালো আছো ?

সরলা
হ ভাই …ভালো আছি।
তুমি কেমন আছো ?

আজাদ
ভাবি –আছি ভালো। আপনাদের দোয়া।
বাসুদেব দোতারা বাজানো বন্ধ করে আজাদের সাথে কুশল বিনিময় করে।

বাসুদেব
রফিক ভাই— কেমন আছো ?

আজাদ
এই আল্লাহ তলাই যেমন রাইখে।
ভালো আছি দাদা।

বাসুদেব
আজ একটু দেরি কইরা আইছো !
আমি ভাবলাম –তুমি আর আইবা না।

আজাদ
দেরি হইলেও আসমু।
তোমার গান না শুনলে মনে হয়-- আজ কি
যেন একটা কাজ বাকি থাইকা গেল। [ মৃদু হেসে ]

বাসুদেব
[ একটু হাসতে থাকে ]
ভাল শ্রোতা না পাইলে গান কইরা সুখ নাই।
[ হাসতে থাকে ]
তোমার ভাবিরে জোর কইরা আর কত গান শুনাইবো।

সবাই হাসতে থাকে। সরলা একটু দূরে বসে পান সাজায়। সাজিয়ে আজাদকে দেয়।
আজাদ সাদরে নেয়। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলতে থাকে —

আজাদ
শুধু গানের জন্য তো আসি না – ভাবির হাতে
একটা পানের লোভেও আসি।
সবাই হাসতে থাকে।
পানটা মুখে দিয়ে আজাদ বলতে থাকে —-
এবার একটা গান ধরো বাসুদা—

সরলা দেওয়ালে হেলান দিয়ে আগের জায়গায় বসে। বাসুদেব কিছুক্ষণ দোতারাতে সুর তোলার চেষ্টা করে। তারপর গান গাইতে শুরু করে —

গান :
আমি অপার হয়ে বসে আছি

[ সবাই হারিকেনের আলোতে বসে। গানের সময় আলোছায়াতে সবার এক্সপ্রেশন দেখানো হবে। দোতারার বাজনাটাও দেখানো হবে ক্লোজ শটে। এখানে বিভিন্ন রকম শর্ট ও লাইটিং এর ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশটা খুব ড্রামাটিক করতে হবে ]
গানের শেষে সবাই কিছুক্ষণ নীরবতার মধ্যে থাকে।
[গানের আবেশ বোঝাতে ]
গানের শেষে আজাদ একটা বিড়ির প্যাকেট থেকে বিড়ি বের করে। বাসুদেবকেও বিড়ির প্যাকেট এগিয়ে দেয়। দুজনে বিড়ি ধরায়। দুই-একটা টান দিয়ে আজাদ বলতে শুরু করে…

আজাদ
তোমার গানের মধ্যে একটা মায়া আছে …. দাদা
তোমার গান শোনার পর আর অন্য কিছু ভালো লাগে না …..
অন্য জগতে বিচরণ করি।
গানের আবেশে রাত কাইটা যায়।
[ কিছুক্ষণ চুপ থাকে সবাই।
আজাদ আরো দইু এক টান দিয়া বলতে থাকে ]
আজ উঠি বাসুদা।
রাইতে রান্না করতে হইবো।
সকালে আবার ফুরানে যাইতে হইবো।
চলি –- ভাবি
আল্লায় তোমাগো ভালো রাখুক।
[ উঠতে উঠতে ]
চলি দাদা। কাল আইমু।
[ বিড়ি টানতে টানতে আজাদ বেরিয়ে যেতে থাকে ]

সরলা
সাবধানে যাইও ভাই

আজাদ
হ ভাবি —যামু
তোমরাও ভালো থাইক।
[ যেতে যেতে ]

11) EXT. BESIDE BIDISHA’S HOUSE - EARLY MORNING
রাস্তার পাশে একটা মধ্যবিত্ত পরিপাটি বাড়ি।
[ যে কোনো বাড়ি কাঁচা অথবা পাকা হতে পারে ]
গ্রাম্য রাস্তা। বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সুন্দর।
রাস্তার দিকের ঘর থেকে গানের রেওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ভৈরবী সুর।
বসন্তের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুর যেন এক আলাদা মাদকতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

12) INT. BIDISHA‘S HOME - EARLY MORNING
ঘরের মধ্যে বিদিশা এক মনে গানের রেওয়াজ করছে।
রাস্তার দিকে জানালা খোলা।
প্রথমে জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখানো হবে।
এরপর Zoom out করে ভিতরের পরিবেশ দেখানো হবে।
হারমোনিয়াম বাজিয়ে বিদিশা রেওয়াজ করছে।
PAN করে কিছুক্ষণ বিদিশার রেওয়াজ দেখানো হবে।
[ রেওয়াজ-এর সাথে রিলেটেড কোনো গানের কথা থাকতে পারে ]

13) EXT. CONTINUE
এরপর আবার বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখানো হবে সুরের সাথে।
ভোরের জনশূন্য রাস্তা। শিমুল ফুলের বাহার। রাস্তার দুপাশে বাটুই ফুল। পাখিদের আনাগোনা।
এসবই দেখানো হবে ভৈরবী সুরের সাথে। সুরের একদম শেষে দেখানো হবে —ছোট্ট আজাদ রাস্তার পাশে এক গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে বিভোর হয়ে গানের রেওয়াজ শুনছে। সবার অলক্ষে লুকিয়ে কিছু করলে যেমন হয়– তেমন এক্সপ্রেশন
তার চোখে মুখে। শেষ করা হবে - আজাদ এরপরেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে।
চোখের চাউনিতে তার লাজকুতা ধরা পড়ে।

14) INT. AJAD’S HOUSE - NOON
আজাদ(15) চুপচাপ বারান্দাতে বসে একমনে।
[ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদিশার গানের সুর বাজতে থাকবে ]
ফাতেমা এক বালতি জল নিয়ে রান্নার ঘরে ঢুকছে। বারান্দাতে আজাদকে দেখে বলতে থাকে ….

ফাতেমা
আব্বা কোন মাঠে গিয়েছে ?
ডেইকে নিয়ে আয় –
ভাত হই গিয়েছে।
আজ আমার অনেক কাজ।
আজাদ একমনে বসে থাকে। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
কিছুক্ষণ পরে ফাতেমা আবার চিৎকার করে বলে —
তোরে একটা কথা বইলেছি
কানে ঢোকে না…?
আজাদ কোন কথা না বলে ধীরে ধীরে উঠে চলে যায়
[ মখেুখের এক্সপ্রেশন একই থাকবে ]

15) EXT. ON THE ROOD - EVENING
আজাদ(15) কিছু ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরছে এক মনে। হাতে কোন গাছের ডাল। মাঝে মাঝে ডাল উচিয়ে ছাগলের লাইন সোজা রাখছে।
কিছুক্ষণ পর সে পিছনে ছাগলের ডাক শুনতে পায়। পিছনে ফিরে সে দেখতে পায়— বিদিশা একটা ছাগলের দড়ি ধরে টেনে রাখার চেষ্টা করছে। ছাগল দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে।
আজাদ দেখে খুশি হয়। লজ্জাও পায়।
ফিরে এসে বিদিশার হাত থেকে ছাগলটাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। দজুনেই চোখে চোখ রাখে।
[ব্যাকগ্রাউন্ডে ইমোশনাল কোনো মিউজিক বাজানো যেতে পারে ]
আজাদ ছাগল নিয়ে চলে যাচ্ছে আর মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে বিদিশাকে দেখছে।
বিদিশাও স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
[ দজুনেরই এক্সপ্রেশন ভীষণ রোমান্টিক ]

16) EXT. ON THE ROOD - AFTERNOON
আজাদ(15) স্কুল থেকে ফিরছে স্কুল ড্রেসে।
পিঠে স্কুল ব্যাগ। সাইকেল না চালিয়ে হাঁটতে হাঁটতে।
বিদিশাও ইস্কুল থেকে ফিরছে সাইকেল চালিয়ে। রাস্তাতে আজাদকে দেখে বিদিশাও সাইকেল থেকে নামে। বিদিশা পিছন পিছন হাঁটতে থাকে আজাদের মতই।

17) EXT. BESIDE RIVER - AFTERNOON
আজাদ(15) নদীর পাড়ে বসে মাছ ধরছে বরশি দিয়ে। কিছুটা দূরে বিদিশা দাঁড়িয়ে।
[ বিদিশা কোনো গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে ]
বিদিশা মাছধরা দেখছে। মাঝে মাঝে দুজন দুজনের দিকে তাকায়। মুখে মিষ্টি হাসি।

18) EXT. CONTINUE WITH (17)
ফাতেমা এক মনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে। হাতে বাঁশের লাঠি। লাঠির মাথায় কাচি বাধা। ছাগলের জন্য পাতা কাটতে যাচ্ছে। অন্য হাতে খালি ঝুড়ি।
যেতে যেতে আজাদও বিদিশাদের দেখতে পায়।
ফাতেমা থমকে দাঁড়ায়। চোখে মুখে অস্বস্তিকর একটা ভাব প্রকাশ পায়।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।
এরপর আর না এগিয়ে আবার বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে রাগে রাগে।
[ হাঁটার গতি একটু বেশি হবে ]

19) EXT. BIDISHA ’S HOUSE - EVENING
সন্ধ্যাবেলায় বিদিশা সাঁঝবাতি দিয়ে সন্ধ্যা দিচ্ছে। সাঁঝবাতি নাড়তে নাড়তে রাস্তা পর্যন্ত এসছে।
প্রণাম করে যখন মাথা তুলে রাস্তার দিকে তাকায় –বিদিশা আজাদ(15)-কে দেখতে পায় ।
আজাদ ধীর গতিতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। দুজন দুজনকে দেখে । দুজনেরই মুখে চাপা মিষ্টি হাসি।

20) EXT. NEAR RIVER - AFTERNOON
আজাদ(15) ও রফিক নৌকায় করে মাছ ধরতে যাবে তার প্রস্তুতি চলছে।
আজাদ নৌকায় বসে জল সেচছে। রফিক কিছু পাতা বর্শি হাতে নিয়ে পাড়ে দাড়িয়ে আছে। জল সেচতে সেচতে আজাদ বলতে থাকে…

আজাদ
আব্বা… আজ সব বর্শি আমি ফেইলব
তুমি কিছু বইলবা না

রফিক
ঠিক আছে বাজান
তাই হবে
দেইখব কেমন মাছ হয়..!
পড়ন্ত আলোতে দুজনের নৌকায় চড়া দেখানো হবে।
আজাদ বর্শি ফেলছে পাড়ের কাছাকাছি – আর রফিক ধীরে নৌকা চালাতে থাকে।
[ কিছুক্ষণ এই দৃশ্য দেখানো হবে ]
বর্শি ফেলতে ফেলতে আজাদ বলতে থাকে…

আজাদ
আব্বা —কাল স্কুল ছুটি
রং খেলা
কাল বইও পড়তে নাই
[ হাসতে থাকে ]

রফিক
সারাদিন তাইলে কি করবি ?
মাছ ধরবি ?
[ হাসতে থাকে ]

আজাদ
আব্বা… আমারও খুব রং খেলতে ইচ্ছা করে।
…. বোনেরও।
সবাই কত আনন্দ করে !
আমাদের রং খেলা নেই কেন আব্বা ?
আমরা মসুলমান - তাই ?
রফিক চুপ করে থাকে। এক্সপ্রেশনে বোঝা যাবে তার অসহায়তা।
[ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর রফিক বলে… ]
উৎসব সবার
মন চাইলে তুমিও খেলতে পারো
আল্লাহ- ভগবানের মধ্যে কোন বিভেদ নাই
যত বিভেদ আমাদের মধ্যে
বইতে পড়ো নাই ?
যে আল্লাহ —সেই ভগবান।

21) EXT. BESIDE ROAD - MORNING
আজ দোল পূর্ণিমা। চারিদিকে বসন্তের ছবি। রাস্তাতে ছোটাছুটি করে ছেলেমেয়েরা রং খেলছে। আবির ও রং মেখে কিছু মানুষ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে এমন দৃশ্য দেখানো হবে।
প্রকৃতির মধ্যেও রঙের মেলা — শিমুল-পলাশ ফুলের বাহার।
[এসব দেখানোর সময় বসন্ত উৎসবের কোনো রবীন্দ্র সংগীত বা মিউজিক বাজানো যেতে পারে ব্যাকগ্রাউন্ডে ]
রাস্তার পাশে কোথাও দাঁড়িয়ে আজাদ(15) বাচ্চাদের রং খেলা দেখছে আর হাসছে। আজাদকে কেউ রং দিচ্ছে না মুসলমান ছেলে বলে। ভালো পোশাক পড়ে তাই সে নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে আছে।
এর মধ্যে বিদিশা আজাদের মাথায় একমুঠো আবির ছুঁড়ে মারে।
[আজাদের মাথায় আবির ছুড়ে মারা দেখানো হবে, বিদিশাকে দেখানো হবে না প্রথমে।
আজাদের মাথায় আবির কে ছুঁড়ে মারলো -–এটা দেখার জন্য যখন আজাদ পিছনে ফিরে তাকায় সে দেখতে পায় –বিদিশা দৌড়াতে দৌড়াতে ফিরে যাচ্ছে। পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি। খোপাতে পলাশ ফুল। মাঝে মাঝে বিদিশা পিছনে ফিরে তাকায় হাসি মুখে।
ঘটনাটি আকস্মিক হলে ও আজাদের এক্সপ্রেশন ছিল ভীষণ রোমান্টিক। এতটাই খুশি হয় যে সে মাথা থেকে আবির ঝেড়ে না ফেলে একইভাবে রেখে দেয়। মুখে তার মিষ্টি হাসি।
[ কিছু ক্লোজ ও মিড শট নিতে হবে আজাদের এক্সপ্রেশন ভালো  করে দেখানোর জন্য ]

22) INT. AJAD’S HOUSE - NOON
মাথায় আবির ভর্তি করে আজাদ(15) বাড়িতে আসে। বারান্দাতে আজাদের বাবা রফিক। আজাদের এই অবস্থা দেখে হাসতে থাকে।
আজাদ বারান্দাতে এসে বসে। কিছুক্ষণ এভাবে বসে থাকে।
ফাতেমা রান্নাঘরে রান্না করছে। আজাদের এমন অবস্থা দেখে খুশি হয়নি।
রান্না থামিয়ে বিরক্তির সাথে আজাদকে দেখতে থাকে।
আজাদকে বলতে থাকে…

ফাতেমা
আবির মেইখে এইছ..!
শখ যদি মেইটে থাকে
যাও এবার স্নান করো গিয়ে
[ লিটিল ব্রেক ]
কিছুই বলার নেই আমার

ফাতেমা জোরে জোরে খুন্তি নাড়তে থাকে। আজাদ কিছুক্ষণ মন ভার করে বসে থাকে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে ধীরে ধীরে উঠে চলে যায়।
ফাতেমা রান্না থামিয়ে সব লক্ষ্য করে। রফিক মৃদু হেসে চলেছে। রফিকের হাসি দেখে ফাতেমা বিরক্ত প্রকাশ করে…

ফাতেমা
তোমার কি খুব আনন্দ হচ্ছে ….!
কিছুনা বইলে উল্টে প্রশ্রয় দিচ্ছ
কিছুই বুইঝতে পারো না তুমি ..?

রফিক ভ্যাবাচ্যাকার মত হাসি থামিয়ে বসে থাকে।
ফাতেমা রান্না থামিয়ে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। হাতে খুন্তি ধরা। দুঃশ্চিন্তা করলে যেমন হয়, ফাতেমার এক্সপ্রেশন ঠিক তেমনি হবে।

23) EXT. BANK OF THE RIVER - AFTERNOON
স্নানের ঘাটে আজাদ(15) চুপচাপ বসে। মাথায় তখনও আবির। সে এমন ভাবে বসে আছে যেন আবির মেখে থাকাটাই তার কাছে আনন্দের। স্নান করে ধুয়ে ফেলতে চায় না।

24) INT. AJAD ’S HOME - NIGHT
ঘরের মধ্যে ফাতেমা –আজাদ(15) ও মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছে।
রফিক বারান্দাতে শুয়ে। ফাতেমা শুয়ে থাকলেও চোখে ঘুম নেই। তাকিয়ে আছে। কিছু সময় পর সে উঠে বসে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে বাইরে শুয়ে থাকা রফিকের কাছে আসে। গায়ে হাত দিয়ে ফিসফিস করে ফাতেমা রফিককে ডাকতে থাকে…

ফাতেমা
আজাদের বাবা – শুনছো ?
…. এই শুনছো ?

ঘুমের মধ্যে এভাবে হঠাৎ ডাক শুনে রফিক ভ্যাবচকিয়ে যায়। ধরফরিয়ে উঠে আধোকাত হয়ে শুয়ে বলতে থাকে…

রফিক
কি হইছে ?
এত রাইতে …?

ফাতেমা
তোমার আর কি হবে ?
যত মরণ তো আমার
তোমাদের জন্যে রাইতে ঘুম আছে আমার ?

রফিক
আরে ধুত কি হইছে — আসল কথাটা বলো।
সমস্যাটা কি ?

ফাতেমা
তুমি কিছু আন্দাজ কইরতে পারতেছ – কি হচ্ছে ?

রফিক
কি ?
আমি তো কিছুই বুইঝতে পারতেছি না।
তুমি কি বইলতে চাইছো এত রাইতে !

ফাতেমা
আজাদের গতিবিধি দেইখা কিছু অনুমান কইরতে পারতেছ ?
নাকি পারতেছ না ?

রফিক
কেন আজাদ আবার কি করলে ?
ও তো ঠিকই আছে
আমার চোখে ভুল কিছু পরে নাই আজাদকে দেইখা।

ফাতেমা
শুনো আজাদের আব্বা
তোমারও একটা কথা স্পষ্টভাবে আমি বইলা রাখি —
তোমাদের এই বাপ-ছেলের জইন্য আমাদের সব হারাইতে হবে।
গ্রামের কেউ অন্ধ না – আর বোকাও না।
জানাজানি হইলে আমাদের কেউ আস্ত রাইখবনা।
এই গ্রামে সবাই হিন্দু–
তুমি কোথাও আশ্রয় পাইবা না।
তোমার পাশেও কাউরে পাইবা না।
সবাই আমাগো জ্যান্ত কবর দিব।

রফিক
এত রাতে তুমি কি সব বকতেছ !
আমি তো কিছুই বুইঝা উঠতে পারতেছি না।
আজাদ কি কিছু ভুল করতেছে ?
কেউ কিছু বইলছে তোমারে ?

ফাতেমা
তোমারে কিছু বুঝাইতে পারবো না।
স্পষ্টভাবে একটা কথা তোমারে বইলা রাখি —
এখানে আমি আর থাইকবো না।
যত তাড়াতাড়ি পারো আমাদের লইয়া
অন্য কোথাও যাওয়ার ব্যবস্থা করো।
( একটু থেমে )
সবাই চইলা গেছে
শুধু ভিটার টানে তুমি থাইকা গেলে।
কি হইল –!
আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে আর ভালো লাগতেছে না।
( একটু কেঁদে কেঁদে )

রফিক
দেখো আজাদের মা –তুমি কি অনমুান করতে পারতেছ –
আমি জানি না।
আজাদ খুব ভালো ছেলে।
ওর জন্য আমাদের কোন বিপদ হইবে –
আমি বিশ্বাস করিনা।
( একটু অপেক্ষা)
তুমি যখন মন পাল্টাইয়া ফেলছো –এখানে আর থাকবা না...
আমি লইয়া যাওয়ার বন্দোবস্ত করতেছি।
ভয় পাইও না ….দেখি কি করা যায়।
কিছুদিন আমারে সময় দাও।

25) INT. AJAD ‘S HOME - CONTITUE
আজাদ(15) ঘরে শুয়ে আছে। সে সব কিছু শুনতে পায়। অন্ধকারে সে তাকিয়ে থাকে। দুচোখে জল। হাত দিয়ে মুখ চেপে রাখে কান্নার আওয়াজ থামাতে।
( ব্যাকগ্রাউন্ডে এক বিষাদের সুর বাজতে থাকবে )

26) EXT. NEAR RIVER - AFTERNOON
আজাদ(15) নদীর পাড়ে বসে বিষন্ন দৃষ্টিতে চুপচাপ বসে আছে। নদীতে নৌকা নিয়ে এক মাঝি বাড়ি ফিরছে। আজাদ উদাস হয়ে বসে আছে। সূর্যাস্তের সাথে আজাদ যেন এক অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার আলোতে আজাদের এক্সপ্রেশন খুবই বিষন্ন হবে।
[ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদিশার গাওয়া কোন গান বাজতে থাকবে দু-চার লাইন ]

গান :
আমি অপার হয়ে বসে আছি...

 

27) EXT. BESIDE FIELD - AFTERNOON
একটা গাছের আড়ালে বসে আজাদ(15) ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। অনেকটাই নির্জন পরিবেশ। গাছের অপর পাশে বিদিশা দাঁড়িয়ে। আবেগ ভরা গলাতে আজাদ বলতে থাকে…
.

আজাদ
[ কাঁদতে কাঁদতে ]
আমরা চইলে যাচ্ছি।
আর আইসব না–
আর দেখা হবে না।

[ প্রথমে শুধু আজাদকেই দেখান হবে। বিদিশাকে দেখান হবে না। বিদিশার V.O. হবে –]

বিদিশা
কোথায় চলে যাবে ?

আজাদ
জানি না

বিদিশা
কেন– কিসের জন্য চলে যাবে ?

আজাদ চুপ করে থাকে কোনো কথা না বলে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।

বিদিশা
আর আসবে না ?

বিদিশা খুব হতাশার সুরে প্রশ্ন করে।
আজাদ শুধু কাঁদতেই থাকে।
কিছুক্ষণ পর বিদিশা আবার বলতে থাকে —-

বিদিশা
সবাই চলে যাক —তুমি যাইও না আজাদ
তুমি এখানেই থেকে যাও

আজাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে বিদিশা আবার প্রশ্ন করে ….

বিদিশা
কি হল ? তুমি একা থাকতে পারবে না আজাদ ?
কেন পারবা না ?

আজাদ কোনো উত্তর না দিয়ে সমানে কাঁদতে থাকে।
বিদিশা আবার বলতে থাকে …..
তুমি যেও না আজাদ। ( ভাঙ্গা গলায়)
আজাদ বিদিশার অনুরোধ শুনে আর থাকতে পারছে না। আজাদ হাঁটুর উপর মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়িয়ে ধপ ধপ করে হাঁটতে শুরু করে। চোখে মুখে রাগ ও কান্না দুই ধরা পড়ে।
[ অসহায়তা বোঝাতে ]
বিদিশা আজাদের পায়ের শব্দ শুনে ভীষণ ভেঙ্গে পড়ে। বিদিশাও কাঁদতে শুরু করে।
গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে —

বিদিশা
তুমি যেও না আজাদ — তুমি যেও না।
বিদিশার কান্নার আওয়াজ আরো বাড়তে থাকে। আজাদ সমানে হাঁটতে থাকে।
বিদিশা উচ্চস্বরে আবার বলতে থাকে —

বিদিশা
সবাই যাক –তুমি যেও না
তোমাকে নিয়ে গেলেও –তুমি চলে এসো আজাদ।
তুমি ওখানে থেকে যেওনা – তুমি চলে এসো।

বিদিশা কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিজেকে আর সামলাতে পারে না। কাঁদতে কাঁদতে সে ওখানেই বসে পড়ে। মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে কান্না শব্দ আটকাতে।
[এভাবে বিদিশাকে কিছুক্ষণ দেখানো হবে ]
আজাদ কথাগুলো শুনতে পায়। সে হঠাৎই দৌড়ানো থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।
[ আজাদের মনের উত্তেজনা প্রকাশ করার জন্যই কখনো দৌড়ানো, কখনো দাঁড়ানো বা ধীরে ধীরে হাঁটা দেখানো হবে ]
[ বিদিশার এই কথাগুলি আজাদের(৬০) স্মৃতিতে ফ্ল্যাশব্যাক করা হবে। ]

28) INT. AJAD ’S HOME - MID NIGHT
ঘরে খুব অল্প আলো জ্বলছে হারিকেন। আজাদ(60) ঘরের মেঝেতে শুয়ে। হঠাৎ আজাদ ঘুম থেকে ধরফরিয়ে উঠে বসে।
ফ্ল্যাশব্যাকের পরে কিছুটা সামলে নিয়ে পাশে রাখা পাত্র থেকে একটু জল খায়। একটা বিড়ি ধরিয়ে টানতে থাকে চুপচাপ।
[ স্বপ্নের রেস বোঝাতে এসব দেখানো হবে —কোনো ডায়লগ না রেখে ]

29) INT. AJAD ’S HOME - EVENING
আজাদ (১৫) নদীর পাড় থেকে বাড়ি প্রবেশ করছে। বাড়িতে সবাই চুপচাপ। ঘরের মধ্যে আলো জ্বলছে।
আজাদের বাবা বারান্দাতে চুপচাপ বসে আছেন। আজাদ বাবার কাছে এসে বসে - কোন কথা না বলে।
[ বসে থাকে কিছুক্ষণ ]
বাইরে বেঁধে রাখা একটা ছাগল। আজাদ বাবার কাছ থেকে উঠে এসে ওই ছাগলটার গলা থেকে দড়ি খুলে দেয়। তারপর কাঁদতে থাকে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।
[ ছাগলটাকে ছেড়ে দেওয়া সিম্বলিক। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়াকে বোঝানোর জন্য ]

30) INT. AJAD ’S HOME - MID NIGHT
আজাদ( 60) ঘরে শুয়ে আছে। এসব পুরানো স্মৃতি আজাদকে ভীষণভাবে পীড়া দেয়। তার দুচোখ ভরে জল আসে।

(29. INT)-এর শেষটা যে অন্ধকার দিয়ে শেষ হবে –সেই অন্ধকারেই বর্তমান আজাদের জলভরা চোখ ভেসে উঠবে | মৃদু আলোতেও আজাদের বিষন্নতা প্রকাশ পাবে । [ কোনো মেলোডি মিউজিকের সাথে এই দৃশ্য দেখানো হবে ]

31) EXT. NEAR RIVER - AFTERNOON
আজাদ(15) এক মনে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছে | হঠাৎ জলে একটা ঢিল পড়ে।
আজাদ খানিকটা বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায়। কে ঢিলটি ফেলল– দেখার জন্য এদিক-ওদিক তাকায়। সে দেখতে পায় বিদিশা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। মুখে হাসি। মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে আজাদকে দেখছে।

32) EXT. NEAR RIVER - AFTERNOON
আজাদ (60) বসে এক মনে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছে। মনের মধ্যে তার পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে। স্মৃতিটা তার আবেগকে এতটাই প্রভাবিত করে যে সে মাছ ধরা থেকে হঠাৎই উঠে দাঁড়ায়। তার মনে হচ্ছে —বিদিশা যেন জলে ঢিল ছুড়ে মেরেছে।
যখন সে তার ভ্রম বঝুতে পারে — ধীরে ধীরে আবার বসে পড়ে।
এরপর গান শুরু হয়–

গান :
ভ্রমর কইয়ো গিয়া...

[ বিদিশার গাওয়া গান ]

ব্যাকগ্রাউন্ডে যেসব দৃশ্য দেখানো হবে —-

33.1) EXT. RIVER - EVENING
বাধাহীন নৌকা ঘুরপাক খেতে খেতে স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ধীরগতিতে। নদীর পাড়ে আজাদ(60) বসে থাকবে।

33.2) EXT. RIVER - EVENING
হাঁসের এক পায়ে দড়ি বাঁধা। নদীর পাড়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

33.3) EXT. ON THE ROAD BESIDE BIDISHA’S HOUSE - EVENING
দরজা জানালা বন্ধ ঘর। জরাজীর্ণ পরিবেশ। রাস্তা দিয়ে আজাদ ধীর গতিতে হেঁটে চলেছে কোনো দিকে না তাকিয়ে।

33.4) EXT. UNDER A TREE - EVENING
ঝরা পাতা। নেরা গাছ।

33.5) EXT. RIVER - EVENING
আজাদ(60) নৌকা চালাচ্ছে খুব ধীর গতিতে।

33.6) EXT. BESIDE SAME TREE - EVENING
যে পরিবেশে আজাদ বিদিশার সাথে শেষ কথা হয়েছিল —সেই পরিবেশ শূন্যতায় ভরা। আজাদ(60) সেই গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

33.7) INT. AJAD’ HOUSE - EVENING
বারান্দাতে হারিকেন জ্বলছে। আজাদ(60) চুপচাপ বারান্দাতে খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে আছে।

34) INT: AJAD’S HOUSE - MORNING
আজ দোল পূর্ণিমা। মন ভার করে আজাদ(60) বারান্দাতে একা বসে। বাইরে দোল উৎসবের দৃশ্যগুলি দেখে আজাদকে নিজের স্মৃতিটা খুব কষ্ট দিচ্ছে।
[আজাদের POV থেকে যে দৃশ্যগুলি দেখানো হবে ]

34.1) EXT. ON THE ROAD - MORNING
ছোট্ট ছেলে মেয়েরা রাস্তায় রঙ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে।

34.2) EXT. ON THE ROAD, MORNING
মাথায় আবির নিয়ে কিছু মানুষ চলাফেরা করছে রাস্তায়।
[ ক্যামেরা আজাদের জায়গাতে সেট করতে হবে। আজাদ বারান্দা থেকে যতটুকু দেখতে পাবে —সেটাই তুলতে হবে ]
আজাদ দৃশ্যগুলি দেখছে খুব উদাস ভঙ্গিতে।
[ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদিশার গাওয়া কোনো গান বাজতে থাকবে। দুচার লাইন |
রবীন্দ্রসঙ্গীত হতে পারে ]

35) VARIOUS LOCATION - EVENING
আজাদের আবির  মাখা স্মৃতিটা আজ সারাদিন আচ্ছন্ন করে রেখেছে আজাদকে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে গানের সাথে দেখানো হবে ।

35.1) UNDER A SIMUL TREE - EVENING
শিমলু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আজাদ(60) বিভোর হয়ে শিমুল ফুল দেখছে।

35.2) SAME LOCATION OF (35.1)
বিদিশা বাসন্তী রং-এর শাড়ি পরে গানের সাথে নাচ করছে। খোঁপায় গোঁজা পলাশ ফুল।
[ ILLUSION ]

35.3) EXT. NEAR RIVER - EVENING
নদীর পাড়ে আজাদ (60) বসে আছে। সন্ধ্যার আলোতে আজাদকে খুবই অসহায় লাগছে।
[ গান ও মিউজিকের সাথে সন্ধ্যা নেমে আসে ]
স্মৃতি ও একাকিত্বের মধ্যেই আজাদ আজ সারাদিন কাটায়।

36) INT.: AJAD’S HOUSE - EVENING
ঘরে মৃদু আলো জ্বেলে চুপচাপ বসে আছে আজাদ (60)।
[ কিছুসময় এভাবে দেখানো হবে ]
হতাশা ও একাকিত্ব কাটানোর জন্য আজাদ ঠিক করে —সে বাউল বন্ধু– বাসুদেবের কাছে যাবে।
কিছুকথা বলতে পারলে নিজেকে অনেকটা হালকা করতে পারবে। একটু গান শুনলেও তার যদি ভালো লাগে।
উঠে এসে আজাদ একটা পাঞ্জাবি পরে।
মাথায় মাওলানা টুপি পড়ে ঘর থেকে বের হয় দরজা দিয়ে। বারান্দাতে হারিকেনটা রেখে ধীরে ধীরে রাস্তার দিকে হেঁটে যায়।

37) INT. BASUDEB’S HOUSE - NIGHT
অন্ধকারে আজাদ(60) বাসুদেবের বাড়িতে প্রবেশ করে। বারান্দাতে একটা হারিকেন জ্বলছে কম আলোতে। বাড়িতে সব চুপচাপ।
আজাদ বারান্দার কাছে এসে ডাকতে থাকে ….
আজাদ
দাদা—ঘুমিয়ে পড়লেন নাকি ?
[ একটু থেমে ]
ভাবি --
বাসুদেব
[একটু পরে ]
কে –আজাদ ভাই ?
আজাদ
হ দাদা —-আজাদ
ঘুমিয়ে পড়লেন ?
বাসুদেব
দাঁড়াও–ভাই - —আইতাছি
ঘরের মধ্যে আলোটা বাড়িয়ে দেয়। পরনের পাজামা - গায়ে গেঞ্জি। একটা চাদর গায়ে জড়াতে জড়াতে বাইরে বেরিয়ে আসে অন্ধে র মত হাতরাতে হাতরাতে। বারান্দায় গোটানো মাদরু পেতে বসতে বলে —
বাসুদেব
বস ভাই
শরীরটা আজ ভালো না
একটুঘুম ঘুম পাইতেছিল
তাই শুইয়া পড়েছিলাম আগে আগেই।
মাদরেুরে বসতে বসতে বাসুদেব এই কথাগুলি বলছে। বসার পর একটুচুপ থাকে। আজাদ এসে মাদরেুরে বসে। এবার বাসুদেব আরো বলতে থাকে —-
বাসুদেব
সন্ধ্যাবেলায় তোমার কথাই ভাবতেছিলাম।
আজাদ
সালাম –দাদা
[ অন্যদি কে ফি রে একটুমাথা নে ড়ে ]
বাসুদেব
[আজাদের আচরণ লক্ষ্য করে ]
দেরি দেইখ্যা আমি ভাবলাম আজ তুমি আর আইবানা
কি শরীর খারাপ ?
[ একটু অপেক্ষা ]
আজাদ
না দাদা —কেমন আছি – বঝুতে পারতেছি না
সকাল থাইকাই কেমন যেন লাগতেছে
কোন কিছু ভালো লাগতেছে না।
ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারতেছিলাম না দাদা
মনটা কেমন ভার হইয়া আছে।
বাসুদেব
[ একটু অপেক্ষা ]
আজ তো পূর্ণিমা  —দোল পূর্ণিমা
[অপেক্ষা ]
আমি জানি আজাদ– আজ তোমার মন ভালো থাকবো না।
দজুনেই কিছুসময় চুপচাপ থাকে। তারপর আজাদ নীরবতা ভাঙ্গে —-
আজাদ
না আইসা পারলাম না দাদা
বাসুদেব
ভালো করছো
সবকিছু বাইধা রাখা যায়
মন বাইধা রাখা যায় না ভাই।
আসছো –ভালো হইছে
একটু কথা কইলে মন হালকা লাগবো
ভালো লাগবো।
আজাদ
[একটু অপেক্ষা ]
এজন্যই তো আইলাম –দাদা
আর পারতেছি না মনরে বুঝাইতে।
[আবার একটু থেমে ]
ভাবি ঘুমাইয়া পড়ছে ?
বাসুদেব
হ..
আমি ও ভালোছিলাম না ভাই
শরীর মন দটুটোই আজ কেমন যেন লাগতেছে
উদাস উদাস
দোতারা লইয়া আজ বসতে ইচ্ছা করে নাই।
বৌদিও শুইয়া পড়ছে
[ একটু থেমে ]
কিবা করব — সারাদিন কাজ লইয়া থাকে।
বিশ্রাম নাই।
সংসারই তার জগৎ — তার সন্তানের মত।
[একটু থেমে ]
কি আর বলবো ভাই তোমারও— বললে তারে ছোট করা হয়।
তোমার ভাবি খুব ভালো মাইয়া
আমার মত এক আধা অন্ধ খ্যাপারে লইয়া জীবন কাটাইয়া দিল
কোন আক্ষেপ নাই
ভাবির জন্য আমি বাইচা আছি
কি পাইলো আমারে লইয়া
[একটু কেঁদে কেঁদে ]
কি দিলাম তারে আমি ..
কিছুক্ষণ ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলতে থাকে —
আমি ভাইগ্যবান– খুবই ভাইগ্যবান
ভগবান আমারে ভালো দৃষ্টি দেয় নাই—
কিন্তু তার চোখ দিয়াই আমি জগত দেখতে পাই
[কেঁদে কেঁদে ]
38) INT. BASUDEB’S HOUSE - CONTINUE
ঘরের মধ্যে সরলা শুয়ে আছে। বাসুদেবের কথা সব শুনতে পায়। আবেগে তার দুচোখ জলে ভরে যায়। নীরব কান্নার মধ্যে তার গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

39) INT. BASUDEB’S HOUSE - CONTINUE

আজাদ
দাদা— তুমি সত্যিই ভাগ্যবান
এত সুখ শান্তি তুমি আর কোথায় পাইতা...!
আমার মত চোখ থাকলেও পাইতানা।

বাসুদেব
[ মাথা নেড়ে কাঁদতে থাকে ]
তুমি ঠিকই বলছ— আজাদ
আমি সত্যিই ভাগ্যবান।
[একটু থেমে ]
কত জনমের পূর্ণ কইরা তোমার ভাবিরে পাইছি —
এ জীবনে কত বড় প্রাপ্তি আমার —-!
আমার আর কোন চাহিদা নাই –আক্ষেপও নাই।
তারে লইয়াই আমার সবকিছু—- আমার জগৎ
[ আবার একটু কাঁদতে থাকে ]
আল্লার কাছে দুয়া মাঙ্গ ভাই—-
এই ভাবেই যেন দুজনে জীবন পার কইরা দিতে পারি
কান্না একটু সামলে নিয়ে আবার বলতে থাকে —-
ভাই আজাদ—
তুমিও ভাগ্যবান
আল্লাহ তোমারও যা দিছে —জগতে সবাইরে তা দেয় না।
আমি সব বঝুতে পারি —--
আল্লাহ তোমারও প্রেম দিছে – মন দিছে
শুধু প্রেম লইয়া একটা আস্ত জীবন কাটাইয়া দিলা….!
কজন পারে ...!
[ কাঁদতে থাকে ]
প্রেমহীন জগতে বাইচা থাইকা কি লাভ...?
শুধু বাইচা থাকা হয়।
কত বড় জগৎ তোমার —সীমাহীন আকাশ ..!
তোমার জগতে তুমি মালি ক— এর কোন ভাগীদার নাই
এর থাইকা বড় পাওয়া আর কি হতে পারে –জীবনে !
তুমি জিইতা গেছো— আজাদ
আশীর্বাদ করি — তুমি বারবার জনম লইবা এমন সুন্দর মন লইয়া।

আজাদ মন দি য়া কথা শুনছে কোনদিকে না তাকিয়ে। কোন কথা না বলে। আবেগঘন এই কথাগুলি শুনতে শুনতে তার দুচোখের জল বইতে থাকে। কিছু সময় এভাবে চলতে থাকে। বাসুদেবও চুপচাপ বসে থাকে। ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব দরদী কোন বাশির সুর বাজাতে থাকবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বাসুদেব আবারও বলতে থাকে —--

বাসুদেব
কাইন্দো না আজাদ
তোমার এই জগত লইয়া তুমি সুখেই থাকবা
[একটু থেমে ]
আজ শরীরটা ভাল না
মনটাও কেমন যেন লাগতেছে।
আজ গান আর আইতাছে না।
আইছো যখন —আজ ভাবীর একটা গান শোনো।
মনটা ভালো লাগবো।
[ একটু অপেক্ষা ]

বাসুদেব
সরলা— শুনছো? একটুবাইরে আইসবা..?
আজাদ আইসছে।

সরলা
[একটু সামলে নিয়ে ]
আইতাছি

কিছু সময় পরে সরলা ঘর থেকে বাইরে আসে। মাদরেুরে বসতে বসতে আজাদকে জিজ্ঞাসা করে —

সরলা
ভাই কেমন আছো ?

আজাদ কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে | আজাদের এক্সপ্রেশন আগের মতই থাকবে। কিছুটা সময় পর বাসুদেব কথা বলে —

বাসুদেব
ওরে আজ কিছু জিগাইও না
ওর মনটা আজ ভালো না
ওরে আজ একটু একা থাকতে দাও।
[ একটু থেমে ]
আজ তুমি একটা গান করো
আমরা শুইনবো—

সরলা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর দেওয়ালে ঝোলানো দোতারা এনে বাসুদেবকে দেয়। বাসুদেবের পাশে বসে গান শুরু করে —

গান :
ভ্রমর কইও গিয়া
শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে
আমার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে
ভ্রমর কইও গিয়া…….

গানের লেখা ও সুর এতটাই বিষাদে ভরা– যা শুনে বাসুদেবও কাঁদতে শুরু করে মাথা নেড়ে।
[ কান্না শব্দ হবে না, শুধু এক্সপ্রেশন দেখাতে হবে ]
বাসুদেব দোতারা না বাজিয়ে পাশে রেখে দেয়। আজাদও নিরবে কাঁদতে থাকে। গানের আবেশ এতটাই হৃদয় স্পর্শই ছিল যে আজাদ আর বসে থাকতে পারলো না।
গান শেষ হওয়ার আগেই উঠে চলে যায় জল ভরা চোখে।

40) EXT. OPEN FIELD - MID NIGHT
পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে এক রোমান্টিক পরিবেশ। আজাদ(60) একা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে।
[একই সাজ থাকবে। ]
হাতে এক থালা আবির। খুব ধীরগতিতে হাঁটতে থাকবে।
যে জায়গাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে – সেই জায়গাতে আজাদ এসে দাঁড়ায়।
অঝরে কাঁদতে কাঁদতে সে নিজের শরীরে - মাথায় আবির মাখতে থাকবে।
[ব্যাকগ্রাউন্ডে সরলার গান বাজতে থাকবে ]
আজাদের আবির মাখা স্থির ছবি আর সরলার গান দিয়ে কাহিনীটা শেষ হবে।

1 comment on “আমার আকাশ – My Sky

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!