First ever website streaming movies with screenplays.

<<GO BACK              NEXT>>

Recitation

রাহুর প্রেম (Rahur Prem)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)

Poem from সঞ্চয়িতা (Sanchayita)

Recitation ( কবিতা আবৃত্তি ) by Sanjib Nath

POEMS

শুনেছি আমারে ভালোই লাগে না , নাই বা লাগিল তোর ।

কঠিন বাঁধনে চরণ বেড়িয়া

চিরকাল তোরে রব আঁকড়িয়া

লোহার শিকলডোর ।

তুই তো আমার বন্দী অভাগী, বাঁধিয়াছি কারাগারে,

প্রাণের বাঁধন দিয়েছি প্রাণেতে,       দেখি কে খুলিতে পারে ।

জগৎ-মাঝারে যেথায় বেড়াবি , যেথায় বসিবি , যেথায় দাঁড়াবি ,

বসন্তে শীতে দিবসে নিশীথে

সাথে সাথে তোর থাকিবে বাজিতে

এ পাষাণপ্রাণ চিরশৃঙ্খল চরণ জড়ায়ে ধরে ।

এক বার তোরে দেখেছি যখন কেমনে এড়াবি মোরে ।

চাও নাই চাও , ডাক নাই ডাক ,

কাছেতে আমার থাক নাই থাক ,

যাব সাথে সাথে , রব পায় পায় , রব গায় গায় মিশি —

এ বিষাদ ঘোর , এ আঁধার মুখ ,

এ অশ্রুজল , এই ভাঙা বুক ,

ভাঙা বাদ্যের মতন বাজিবে সাথে সাথে দিবানিশি ।

নিত্যকালের সঙ্গী আমি যে, আমি যে রে তোর ছায়া,

কিবা সে রোদনে কিবা সে হাসিতে ,

দেখিতে পাইবি কখনো পাশেতে ,

কভু সম্মুখে কখনো পশ্চাতে , আমার আঁধার কায়া ।

গভীর নিশীথে একাকী যখন বসিয়া মলিন প্রাণে ,

চমকি উঠিয়া দেখিবি তরাসে

আমিও রয়েছি বসে তোর পাশে

চেয়ে তোর মুখপানে ।

যে দিকেই তুই ফিরাবি বয়ান

সেই দিকে আমি ফিরাব নয়ান ,

যে দিকে চাহিবি আকাশে আমার আঁধার মুরতি আঁকা ।

সকলি পড়িবে আমার আড়ালে , জগৎ পড়িবে ঢাকা ।

দুঃস্বপ্নের মতো চিরকাল তোমারে রহিব ঘিরে,

দিবস-রজনী এ মুখ দেখিব তোমার নয়ননীরে ।

চিরভিক্ষার মতন দাঁড়ায়ে সম্মুখে তোর

‘দাও দাও ' বলে কেবলি ডাকিব ফেলিব নয়নলোর ।

কেবলি সাধিব , কেবলি কাঁদিব , কেবলি ফেলিব শ্বাস,

কানের কাছেতে প্রাণের কাছেতে করিব রে হা-হুতাশ ।

মোর এক নাম কেবলি বসিয়া জপিব কানেতে তব ,

কাঁটার মতন দিবস রজনী পায়েতে বিঁধিয়ে রব ।

গত জনমের অভিশাপ-সম রব আমি কাছে কাছে ,

ভাবী জনমের অদৃষ্ট-হেন বেড়াইব পাছে পাছে ।

যেন রে অকূল সাগর-মাঝারে ডুবেছে জগৎ-তরী

তারি মাঝে শুধু মোরা দুটি প্রাণী

রয়েছি জড়ায়ে তোর বাহুখানি ,

যুঝিস ছাড়াতে , ছাড়িব না তবু সে মহাসমুদ্র- ' পরি ।

পলে পলে তোর দেহ হয় ক্ষীণ ,

পলে পলে তোর বাহু বলহীন ,

দোঁহে অনন্তে ডুবি নিশিদিন তবু আছি তোরে ধরি ।

রোগের মতন বাঁধিব তোমারে নিদারুণ আলিঙ্গনে

মোর যাতনায় হইবি অধীর ,

আমারি অনলে দহিবে শরীর ,

অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে ।

ঘুমাবি যখন স্বপন দেখিবি , কেবল দেখিবি মোরে ,

এই অনিমেষ তৃষাতুর আঁখি চাহিয়া দেখিছে তোরে ।

নিশীথে বসিয়া থেকে থেকে তুই শুনিবি আঁধারঘোরে ,

কোথা হতে এক কাতর উন্মাদ ডাকে তোর নাম ধরে ।

নিরজন পথে চলিতে চলিতে সহসা সভয় গণি ,

সাঁঝের আঁধারে শুনিতে পাইবি আমার হাসির ধ্বনি ।

হেরো অন্ধকার মরুময়ী নিশা —

আমার পরান হারায়েছে দিশা ,

অনন্ত ক্ষুধা অনন্ত এ তৃষা করিতেছে হাহাকার ।

আজিকে যখন পেয়েছি রে তোরে

এ চিরযামিনী ছাড়িব কী করে ।

এ ঘোর পিপাসা যুগযুগান্তে মিটিবে কি কভু আর ।

বুকের ভিতরে ছুরির মতন ,

মনের মাঝারে বিষের মতন ,

রোগের মতন , শোকের মতন রব আমি অনিবার ।

জীবনের পিছে মরণ দাঁড়ায়ে , আশার পিছনে ভয় —

ডাকিনীর মতো রজনী ভ্রমিছে

চিরদিন ধরে দিবসের পিছে

সমস্ত ধরাময় ।

যেথায় আলোক সেইখানে ছায়া এই তো নিয়ম ভবে ,

ও রূপের কাছে চিরদিন তাই এ ক্ষুধা জাগিয়া রবে!